সোনারগাঁ
উপজেলার কাচঁপুর এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার গত বুধবার রাতে একজন
নারী শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনায় মামলা তুলে নিতে মামলার আসামি ও যুবলীগ নামধারী
লোকজন হুমকি দিচ্ছে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে
পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা
চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ওই ধর্ষিতার স্বামী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার
কাঁচপুর একটি পোশাক কারখানার একজন নারী শ্রমিক কাজ শেষে গত রাতে বাড়ী
ফেরার পথে গত বুধবার রাতে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের লেদামদী গ্রামের সড়কের
পাশের একটি বাড়ীতে হাত পা বেঁধে ধর্ষন করে স্থানীয় মামুর্দী গ্রামের বখাটে
যুবক জাকারিয়া ও লেদামদী গ্রামের আবু দাইয়ান। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই
মামলা হওয়ার পর ওই ধর্ষক জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওই নারীর স্বামী জানান, আমার স্ত্রীকে জোর
পূর্বক ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা করার পর থেকে মামলার আসামিদের পরিবারের
সদস্যরা ও স্থানীয় যুবলীগ কর্মী সিরাজুল ইসলাম, আবদল্লাাহ মিয়া, মজিবুর
রহমান, শওকত মিয়াসহ তাদের সহযোগিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি ও
ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের
জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে তারা। আমরা প্রানের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে
বেড়াচ্ছি। তাই বাধ্য হয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছি।
যুবলীগ কর্মী সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ
মিয়ার সাথে যোগোযোগ করা হলে তারা জানায় বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য
স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও
ভয়ভীতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা।
সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গাজি
মুজিবুর রহমান জানান, যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, পোশাক কর্মীকে ধর্ষনের ঘটনায় জাকারিয়া নামে এক
ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। কেউ
মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদিকে হুমকি দিলে তাদের বিরুদ্ধে ও আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহন করা হবে।
