প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে সিলেটের এমসি কলেজে প্রাঙ্গণে একজন ছাত্রীকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। গুরুতর আহত ছাত্রী খাদিজা বেগম ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।
খাদিজা বেগমকে কোপানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিলেট এম সি কলেজের একজন ছাত্র (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খাদিজা বেগমের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই ছাত্র বিবিসি বাংলার কাছে ঘটনাটির বর্ণনা যেভাবে দিয়েছেন, সেটির সঙ্গে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির পুরোপুরি মিল রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আশঙ্কা করছেন তার নাম প্রকাশ হলে হয়ত কোনোভাবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দূরে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে ক্রমাগত আঘাত করছেন। এ ভিডিওতে হামলাকারী ও আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা সে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দূর থেকে অনেকে ঘটনাটি দেখছিলেন এবং একপর্যায়ে অনেকে ছুটোছুটি শুরু করে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও করলেও আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় তিনি অনেকের সাথে ভলিবল খেলছিলেন। হঠাৎ মেয়েদের চিৎকার শুনে তিনি এবং তার খেলার সঙ্গীরা এগিয়ে যান।
তিনি বলেন, "ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি যে, পুকুরের উত্তর পাশে একটি ছেলে একটি মেয়েকে কোপাচ্ছে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে মেয়েটি চিৎকার করছিল।'' আশপাশে এত ছাত্রছাত্রী থাকলেও তারা কেউ খাদিজা আক্তারকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়নি কেন? দূর থেকে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও করলেও খাদিজাকে বাঁচানোর জন্য কেউ কি প্রয়োজন বোধ করেনি?
প্রত্যক্ষদর্শী বলছিলেন, "সাধারণ স্টুডেন্টরা চেয়েছিল যেতে, কিন্তু চাপাতি হাতে ছেলেটা তেড়ে আসছিল বারবার। সে জন্য সাহস করে কেউ মেয়েটাকে রক্ষার জন্য যেতে পারেনি। ঘটনাস্থলে না থাকলে বুঝতে পারবেন না যে ছেলেটা কিভাবে চাপাতি হাতে তেড়ে আসছিল।''
তিনি বলছিলেন, "হামলাকারী ছেলেটির আচরণ এতটাই আগ্রাসী ছিল, কেউ যদিও মেয়েটিকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যেত তাহলে সে ব্যক্তিও আক্রান্ত হতো।''
খাদিজাকে কোপানোর পর হামলাকারী বদরুল আলম যখন পালিয়ে যাচ্ছিল তখন ছাত্রছাত্রীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ এগিয়ে আসে।
হামলাকারী বদরুলকে হাত থেকে চাপাতি ফেলে দেবার জন্য পুলিশ আহ্বান জানালেও সে তাতে সাড়া দিচ্ছিল না। পুলিশ যখন তাকে গুলি করার হুমকি দেয় তখন সে চাপাতি ফেলে দেয়।
সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন আহত ছাত্রী খাদিজা বেগম সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী। ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে তিনি এমসি কলেজে এসেছিলেন। কারণ এমসি কলেজ ছিল তার পরীক্ষা কেন্দ্র।
মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬
খাদিজাকে কোপানোর দৃশ্য ভিডিও করলেও বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ
✔
সোনারগাঁও সময়
মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৪, ২০১৬
Share this
Recommended
Disqus Comments