নজরুল ইসলাম শুভ :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও এর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার ব্যাটারি চালিত অটোরিকসা মালিক ও শ্রমিকরা। মহাসড়কের পাশ থেকে ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা আটক, রিস্ক্রার ব্যাটারী খুলে নেওয়া, রিসকার চালকদের মারধর করা ও উৎকোচের বিনময়ে রিসকার ও ব্যাটারী ছেড়ে দেওয়া, বিনা কারনে দিনের পর দিন হয়রানী করা, দালাল চক্রের উপদ্রব, মামলা দিয়ে হয়রানী করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সোমবার বিকেলে হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা মালিক শ্রমিকরা। এসময় মহাসড়কের কাঁচপুর পয়েন্ট থেকে দূ‘প্রান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘন্টাব্যাপী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। যানজটের কবলে পড়ে এসময় হাজার হাজার পরিবহন যাত্রী চরম দূর্ভোগ পোহান। পরে কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ ওমর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এব্যাপারে পুলিশ ও রিসকার মালিক-শ্রমিকদের কথা বলে এর সমাধান দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে মালিক-শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন গ্রাম এলাকা চলাচলের জন্য অসংখ্য শাখা রোড রয়েছে। এসব রোড দিয়ে চলাচলরত ব্যাটারি চালিত অটোরিকসা মহাসড়কের ঢালুতে ও উপরের অংশে যাত্রী নামাতে আসলেই কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ওইসব অটোরিকসা আটক করে ও ওই সব অটোরিসকার ব্যাটারী খুলে নিয়ে যায়। এব্যাপারে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মোটা অংকের উৎকোচ দাবী করে। দাবীকৃত উৎকোচ দিলে তা রাতের আধারে ছেড়ে দেয়। অন্যথায় মাসের পর মাস হয়রানী অথবা অটোরিকসা শ্রমিকদের মারধর করে। সাম্প্রতি কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অত্যাচার বেড়ে গেলে সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ থানা এলাকাসহ কয়েকটি এলাকার হাজার হাজার অটোরিকসা মালিক-শ্রমিকরা কাঁচপুর এলাকায় জড়ো হয়। এসময় বিক্ষুদ্ধ মালিক-শ্রমিকরা কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটোরিকসা মালিক-শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন যাবত কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়ক ছাড়া বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চলাচলরত অটোরিকসা মালিক শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে আসছিল। কোন অটোরিকসা মালিক বা শ্রমিক তাদের মাসোহারা বন্ধ করে দিলেই তারা শ্রমিকদের চড়াও হয় ও নির্যাতন চালায়। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্যকে পুঁজি করে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়কে অটোরিকসা নিয়ে না উঠলেও সুকৌশলে তাদের উপর এ নির্যাতন চালাচ্ছে। মহাসড়কের পাশে শাখা রাস্তায় চলাচলকারী অটোরিসকার ব্যাটারি খুলে তা থানায় নিয়ে গিয়ে ২-৩ হাজার টাকা উৎকোচ আদায় করছে। দাবীকৃত টাকা না দিলেই অটোরিকসা মালিক-শ্রমিকদের হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার পেচাইন, চেঙ্গাইন, সোনাপুর, বেহাকৈর খালপাড়, চেঙ্গাইন, মোগরাপাড়া, দড়িকান্দি ও রূপগঞ্জের মুড়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক ব্যটারিচালিত অটোরিকসা মালিক ও শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে কাঁচপুর এলাকায় মহাসড়ক এক ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় মহাসড়কের উভয় প্রান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকা পড়ে এসময় হাজার হাজার পরিবহন যাত্রী চরম দূর্ভোগ পোহান। পরে কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ ওমরের পুলিশের সাথে শ্রমিকদের এব্যাপারে মিমাংসার আশ্বাস দিলে মালিক-শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়। মহাসড়কে বিক্ষোভকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা মালিক নুরুল হক জানান, কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ব্যাটারি চালিত অটোরিকসা বিনা কারনে ধরে এনে আটক করে রাখে। পরে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ২-৩ হাজার টাকার মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে তা ছাড়িয়ে নিতে হয়। একটি অটোরিকসা প্রতিদিন আয় হয় মাত্র ৪-৫ ‘শ টাকা। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তাদের দিতে হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অটোরিকসা চালক মুজিবুর রহমান বলেন, হাইওয়ে পুলিশ পুরোপুরি দালালের উপর নির্ভর করে মাসোহারা নিয়ে থাকে। হাইওয়ে থানায় খোকা ও জামাই (ছদ্দনাম) নামের পরিচিত দুই ব্যক্তিসহ ৮/১০ জন দালালের মাধ্যমে এসব অটোরিকসা ও এর ব্যাটারি ছাড়িয়ে নিতে হয়। পুলিশের পাশাপাশি তাদেরকেও টাকা দিতে হয়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শরিফুল আলম সোনারগাঁও নিউজকে জানান, কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। ব্যাটারি চালিত অটোরিকসা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে না দেওয়ায় তারা পুলিশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ মহাসড়কে অহরহ দূর্ঘটনা এড়াতে ও সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মহাসড়ক দিয়ে কোন ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা চলাচল করতে দিবে না। কোন ব্যাটারি চালিত অটোরিকসা মহাসড়কে উঠলেই তবে আটক করা হয়।