সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১৬

আনন্দবাজারে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলণ অব্যাহত ॥ ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা


নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেকের পাশাপাশি বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ২০/২৫টি শক্তিশালী ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই স্থলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও রহস্যজনক কারণে এর মূলহোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলণ। যার দরুন এলাকাবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর কয়েকটি বালু মহাল থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলণের জন্য ইজারাদাররা সরকারের কাছ থেকে ইজারা আনলেও পরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি বছরই তারা বালু মহালের নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ শুরু করে। গত প্রায় এক যুগ ধরে এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলণের কারণে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেকসহ এর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নিরীহ কৃষক ও জেলে সম্প্রদায়ের কয়েক’শ বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ওই বালু সন্ত্রাসীরা মেঘনা নদীর সীমানাবর্তী বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার, সোনামুহি, ছনপাড়া, হাড়িয়া বৈদ্যপাড়াসহ আশপাশের আরো কয়েকটি গ্রাম থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করায় হুমকির মুখে পতিত হয়েছে এসব গ্রামগুলো। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে মাঝে মধ্যে ভ্রামম্যান আদালতের মাধ্যমে ওসব স্পটে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বালু সন্ত্রাসীরা ওই অভিযানের খবর আগেভাগেই টের পাওয়ায় মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কুমিল্লার মেঘনা থানার নলচর গ্রামের ছানাউল্লার নেতৃত্বে সোনারগাঁয়ের আনন্দবাজার এলাকায় এই অবৈধ বালু উত্তোলণের নিয়ন্ত্রক স্থানীয় যুবলীগ নেতা নবী হোসেনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো মেঘনার নলচর গ্রামের ছানাউল্লার নেতৃত্বে বালু সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করছে। এতে সোনারগাঁয়ের কয়েকজন জড়িত থাকলেও তিনি এতে জড়িত নন।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা জানান, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধের জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ বালু উত্তোলণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Disqus Comments