দখল-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের সংঘর্ষের জের ধরে গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেটগামী যাত্রীরা।
এমনকি নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জসহ রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি জেলায় চলাচলরত আন্তঃজেলার বাসও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গন্তব্যস্থানে যাওয়ার জন্য অনেকেই সাহরির পর থেকে গুলিস্তান ও সায়েদাবাদের বাস কাউন্টারগুলোতে বসা আছেন। কিন্তু, কখন নাগাদ বাস ছাড়বে তাও তারা জানেন না।
নোয়াখালী যাওয়ার জন্য একজন মহিলা যাত্রী সকাল থেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসা আছেন সায়েদাবাদ কাউন্টারে। তিনি বলেন, হুতের(পুত্রের) বউ নিয়া বইয়া(বসে) আছি, বাস নাই।
একজন এসেছেন খুলনা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য। ওই যাত্রী বলেন, আমি খুলনা থেকে এসেছি চট্টগ্রাম যাব। বাস না পেয়ে বসে আছি। বাস চলাচল কখন শুরু হবে কাউন্টার থেকে তারা সেটাও আমাদেরকে বলতে পারছে না। জানি না কখন যে যেতে পারবো।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, “মধ্যরাত থেকেই দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না।”
তবে ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো চলছে বলে জানান তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুর থেকেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলিস্তানে একটি কার্যালয়ের দখল নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সায়েদাবাদ ও হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তানে কোনো বাস প্রবেশ করেনি। আবার এখান থেকে কোন পরিবহন যেতে দেয়নি শ্রমিকদের একটি গ্রুপ।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জানান, বঙ্গভবনের পূর্বদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল। রোববার রাতে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন তা দখলে নিতে গেলে বিবাদ শুরু হয়।
তিনি জানান, আগে কার্যালয়টি নিয়ন্ত্রণ করতো শ্রমিক নেতা করম আলী গ্রুপ। হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন সফর আলী ও রহিম মুন্সি গংরা কার্যালয়টি দখলে নিতে গেলে এই দ্বন্দ্বের শুরু হয়।
দোয়েল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলজার হোসেন ভূইয়া জানান, গতরাতে উভয়পক্ষে দু'দফা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এরপর মঙ্গলবার সকালে সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় করম আলীর সমর্থক শ্রমিকেরা।
তারা মঙ্গলবার সকাল থেকে গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছে।
গুলজার হোসেন দাবি করেন, করম আলী গ্রুপের শ্রমিকরা যানবাহন ভাংচুর ও শ্রমিকদের লাঠিপেটা করছে। এ বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী শক্ত কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। ফলে গোটা রাজধানীতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে শ্রমিকদের দু'পক্ষের সংঘর্ষে তিন ঘণ্টা হানিফ ফ্লাইওভার ও সায়েদাবাদ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিকেলে পুলিশের হস্তক্ষেপে গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হলেও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় মধ্যরাত থেকে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬
গুলিস্তান-সায়েদাবাদে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
✔
সোনারগাঁও সময়
মঙ্গলবার, জুন ২১, ২০১৬
Share this
Recommended
Disqus Comments