মোঃ কবির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাবা বলতো মা তোমরা এসো সোনারগাঁ ঘুরে যাও অনেক সুন্দর জায়গা। এখানে প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল। এখন আছে বাংলার তাজমহল। বাবাকে কথা দিয়েছিলাম পরীক্ষাটা শেষ হলে অবশ্যই আসবো। সেই তো সোনারগাঁয়ে আসা হলো কিন্তু বাবা নেই।
আমরা আজ সোনারগাঁয়ে অথচ আমার বাবা চির নিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে তার জম্মস্থান মানিকগঞ্জে। বাবা যেদিন না ফেরার দেশে চলে গেলেন সেদিন সকালেই তার সাথে ফোনে শেষ কথা হয়েছিল। বাবা বলেছিলেন মন দিয়ে লেখাপড়া করতে। আজ বাবা নেই কার জন্য করবো লেখাপড়া। অশ্রু সিক্ত নয়নে কথাগুলো বলেছে সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের রাইজদিয়ায় গণ পিটুনিতে নিহত সোনারগাঁ থানার কনেস্টেবল আরিফুর রহমানে মেয়ে আরিফা খানম দিপা।
রোববার রাতে সোনারগাঁ থানার ডিউটি অফিসারের রুমে কথা হয় নিহত আরিফুর রহমানের পরিবারের সাথে। স্ত্রী আসমা আক্তারের সাথে ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে সোফার উপর বিষন্ন মনে বসে ছিল আরিফুর রহমানের দুই মেয়ে ।
নিহত কনস্টেবল আরিফুরের ছোট মেয়ে উষা খনম মিতা (৯) ও বড় মেয়ে আরিফা খনম দিপা (২০) । দুই মেয়েই এখন তাদের পিতাকে হারিয়ে অসহায়। ছোট মেয়ে মানিকগঞ্জের একটি প্রাইমারী স্কুলে ২য় শ্রেনীতে পড়ে। আর বড় মেয়ে মিরপুর ইউনিভাসিটি বিজনেস এন্ড টেকনোলজিতে বিবিএ থার্ড ইয়ারে পড়ে।
আরিফুরের স্ত্রী আসমা আক্তার জানান, স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে আমরা যখন কান্নাকাটি করছিলাম তখন ছোট মেয়েটা জিজ্ঞেস করছিলো বাবা যে মারা গেলো আমার ঈদের নতুন জামা কি আনতে পারবে না। আমি মেয়ের এমন কথার কোন উত্তর দিতে পারিনি। কি হতে কি হয়ে গেলো সবসময় মুখে হাসি থাকতো যে লোকটির। কারো সাথে রাগ করে কথা বলতে পারতো না। সে লোকটিকে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করে ফেললো। একথা মনে হলেই বুক ফেটে কান্না আসে। রবিবার রাতে বাসে উঠে চলে এসেছি সোনারগাঁয়ে । থানায় এসেই মনে ভেসে উঠলো সেই হাসি মাখা মুখ খানা।
নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী দুই মেয়ে ও একমাত্র বোন। তারা এখানে এসেছেন আরিফুরের শেষ স্মৃতি তার ব্যবহৃত জিসিনপত্র নিতে। এছাড়া সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদের অনুরোধ করে ছিলেন যেন তারা তার সাথে দেখা করেন। ওসি জরুরী কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকায় দিন কাটিয়েছেন তারা সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন রুমে বসে। আরিফুরের সতীর্থদের সাথে কথা বলে। তখন তাদের চেহেরায় দেখা গেছে সদ্য বাবা, স্বামী ও ভাই হারানো অব্যক্ত কষ্ট। ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ে মেয়ের দিকে কেউ যেন তাকাতেই পারছে না। কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না কেউ। সান্তনা দেওয়ার ভাষাও ছিল না কারো। অবশেষে রাত ১০টার সময় থানায় আসেন মঞ্জুর কাদের। দেখা করে কথা বলে খোজ খবর নেন। অবশেষে ওসি মঞ্জুর কাদের থানার সকল স্টাফদের কাছ থেকে নিজের সহায়তায় তাদের হাতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন। সোনারগাঁ থানা তাদের হারানো বাবা স্বামী ও ভাইকে ফিরিয়ে দিতে না পারলেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।###
বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬
বাবা তুমি না বলেছিলে সোনারগাঁ এসে ঘুরে যেতে,তুমি কোথায় বাবা,
✔
সোনারগাঁও সময়
বুধবার, আগস্ট ১০, ২০১৬
Share this
Recommended
Disqus Comments