মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬

রবি-এয়ারটেল একীভূতের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী

বেসরকারি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর একীভূত ফি, তরঙ্গ চার্জ ও অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত রেখেছেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (পিটিডি) পাঠানো একীভূত প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর দেশে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মত দু’টি অপারেটরের একীভূত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিষ্পত্তি হতে চলেছে। গত ২৪ জুলাই পিটিডি একীভূত ফি ১শ’ কোটি টাকা অন্তর্ভূক্ত করে একীভূত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার অনুমোদনের জন্য পাঠায়। এছাড়া একত্রীকরণ ফি ছাড়াও পিটিডিপ্রতি মেগাহার্টজ টুজি তরঙ্গের জন্য ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকানির্ধারণ করেছে।গত ১৩ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিতের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বৈঠকে একত্রীকরণ ফি ও তরঙ্গের মূল্য চূড়ান্ত করা হয়। এর সঙ্গে পিটিডি প্রস্তাবে দুটি মোবাইল ফোন অপারেটরের একীভূতকরণের বেশ কয়েকটি শর্ত একত্রীকরণ করেছে।বর্তমানে এয়ারটেল ১৫ মেগাহার্টজের টুজি তরঙ্গ ব্যবহার করছে এবং এর লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হবে। রবি সমগ্র তরঙ্গের অধিকার লাভ করলে এ অপারেটরকে টেলিকম নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০৭ কোটি টাকা দিতে হবে।এছাড়া অন্যান্য শর্তের মধ্যে, মোবাইল ফোন অপারেটর রবিকে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেলিকম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কাছে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দাখিল করতে হবে যাতে একীভূত হওয়ার পর কেউ চাকরিচ্যুত না হয় কিংবা কোন বেকারত্বের সৃষ্টি না হয়।এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানির সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী একটি স্বেচ্ছা অবসর স্কিম (ভিআরএস) ও স্বেচ্ছা পৃথকীকরণ স্কিম (ভিএসএস) গ্রহণ করতে হবে এবং তা টেলিকম নিয়ন্ত্রয়কারী সংস্থার কাছেও দাখিল করতে হবে।শর্তে আরো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে একীভূত হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়া কোম্পানির কোন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার আগে তার উপযুক্তকারণসহ তথ্য অবশ্যই টেলিকম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।২০১৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে এ একীভূতকরণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সই করে। রবি ও এয়ারটেল একীভূত হলে এটিই হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর।যুক্ত কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে রবির মূল কোম্পানি আজিয়েটা ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, ভারতি এয়ারটেল ২৫ শতাংশ ও জাপানের এনটিটি ডকোমো ৬.৩ শতাংশের মালিকানা অর্জন করবে। একীভূত হওয়ার পর নতুন অপারেটর রবি নামে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, যা হবে গ্রামীণ ফোনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর। সূত্র-বাসস।

Disqus Comments